
ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ (Invest Bangladesh Act, 2026)
বাংলাদেশে ব্যবসা করা কঠিন।
কেমন কঠিন সেটা যারা সেটার সম্মুখীন হয়নি তারা বুঝতে পারবেন না সম্ভবত।
ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজ করা হবে এমন কথা মুখে মুখে সবাই সবসময়ই বলে যেতে থাকে, কিন্তু সেটা কখনো বাস্তবে রূপ দেয়া হয়না।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।
কেন?
একটা দেশে বিদেশী বিনিয়োগ যখন আসবে, তখন অই দেশে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কারখানা তৈরি করবে। আর এতো সব কাজ তো বিদেশীরা এসে করবেনা।
কে করবে?
অবশ্যই যে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে অই দেশের লোকজনই করবে অর্থাৎ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
কারখানা তৈরি করতে অনেক উপাদান এবং পণ্য লাগবে, সেগুলোও সরবরাহ করবে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। কাঁচামালও সম্ভব হলে স্থানীয় জায়গা থেকেই সরবরাহ করা হবে।
অর্থাৎ একটা দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বা যেকোনো বিনিয়োগ হলে সেটা পুরো অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করে।
এখন কথা হচ্ছে, বিনিয়োগ কে করবে, কেন করবে? বিনিয়োগকারীরা আসলে কি চায়?
বিনিয়োগকারীদের অনেক চাওয়া থাকলেও সরবপ্রথম চাওয়াটা হচ্ছে, ব্যবসার পরিবেশ সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে। যেন খুব সহজেই শুরু করা যায়।
কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে এমন সিস্টেম আমরা করে রেখেছি যে মনে হবে, আমরা আসলে কোন বিনিয়োগ চাই না। এতো এতো জটিল অবস্থা করে রেখেছি যে, শুরুতেই বিনিয়োগকারীরা ভয় পেয়ে যান।
ব্যবসা শুরু করতেই লাইসেন্স এর পর লাইসেন্স লাগে। খরচের কথা না বলাই ভাল। আমরা জানি যে আমাদের শুধু সরকারি ফি দিলেই যথেষ্ট নয়, ব্যাক্তিগত অনেক ফি ও দিতে হয়!!! না হলে কোন লাইসেন্স মেলে না।
শুধুমাত্র বিনিয়োগের একটা সেম কাজের জন্যই কয়েকটা অথরিটি বানিয়ে রাখা হয়েছে।
যাই হোক, বর্তমান সরকার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা ছিল সেগুলো দূর করার জন্য এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজের জন্য একটা সিঙ্গেল অথরিটির নিয়ন্ত্রনে সবকিছু নিয়ে আশা হবে।
সেই প্রেক্ষিতে “ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬” মহান জাতীয় সংসদের উলথাপন করা হয়। এতে বলা হয় যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম সমন্বিত করা হবে।
১৫ জুলাই ২০২৬ এ “ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬” মহান সংসদে পাস বা স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে এই বিলটি আইনে (ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬) পরিণত হয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এর মাধ্যমে যে “ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ” সৃষ্টি হয়েছে বা হবে তার মাধ্যমেই এখন থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই কর্তৃপক্ষ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন থাকবে। এবং এই নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ানস্টপ সার্ভিস, লাইসেন্স ও অনুমোদনপ্রক্রিয়ার ডিজিটাইজেশন এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সেবাকে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
আমার দৃষ্টিতে এটা খুবই চমৎকার একটা উদ্যোগ। এখন দেখা যাক এই উদ্যোগ কতটা সফলতা অর্জন করতে পারে।
আপনার কি মনে হয়?
ধন্যবাদ।
Something Nazmul
