মেসিকে কেন ফুটবলের প্রয়োজন?

মেসিকে কেন ফুটবলের প্রয়োজন?

ফিফা ম্যন্স বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলের ব্যবধানে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়েছে।
আর্জেন্টিনা ফ্যানদের কাছে ব্যাপারটা যেমন কষ্টকর তেমনি বিপক্ষ দল বা যারা আর্জেন্টিনাকে পছন্দ করেন না তাদের কাছে এটা আনন্দের। সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।

কিন্তু বিষয়টা যখন “লিওনেল মেসি”কে নিয়ে তখন আলোচনাটা আরেকটু ভিন্ন হতে পারে।
বর্তমানে লিওনেল মেসির বয়স ৩৯।
এই বয়সে সাধারণত খুব বেশি মানুষ ফুটবল খেলে না। প্রধান কারনঃ বয়স। কেননা এই বয়সে এসে ফুটবলের প্রেশার নেবার ক্ষমতা প্রায় কারোই থাকেনা। এমনকি মেসির যারা সমসাময়িক সতীর্থ ছিলেন তারা প্রায় কেউ মাঠে নেই বললেই চলে। তারা সবাই অন্য রোলে চলে গেছেন। তাছাড়া ক্লাব ফুটবল খেলে যে পরিমাণ অর্থ একেকজন প্লেয়ার আয় করে থাকেন সেটা দিয়েই তারা বাকি জীবন পাড় করে দিতে পারেন।

কিন্তু লিওনেল মেসি অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি টিকে আছেন। শুধু টিকে আছেন বললে কম বলা হবে, খুব ভালো ভাবেই আছেন। ২০২৬ এর টুর্নামেন্টে মেসি যে পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন টা অবিশ্বাস্য। বলতে গেলে একা একাই আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন।

কিন্তু মেসি কেন স্পেশাল?
মেসি গোল করেন এবং গোল করান শুধু কি এজন্যই?
উত্তরটা হচ্ছেঃ না।

শুধু গোল করেন বা করান এমন দারুণ প্লেয়ার অনেক আছে।
কিন্তু তারপরও কেন মেসিকেই কেন সবাই স্পেশাল বলেন?

মেসি স্পেশাল কারন তার খেলার সৌন্দর্য। মেসি ফুটবলে এমন সব সুন্দরতম মুহূর্ত তৈরি করতে পারেন যা অন্যদের পক্ষে সম্ভব নয়।

মেসি বল পেলে এমন কিছু করেন যা অন্যকেউ করতে পারেনা। এমনকি মেসি বল পেলে কি করবে সেটা অনেকেই কল্পনাই করতে পারেনা।
মেসি এমন সব পাস বা ব্লাঙ্ক স্পেস দেখতে পান যা অনেকে কল্পনাই করতে পারেনা।
আর এই একটি কারনেই মেসির পায়ে বলকে বিপক্ষ দলের লোকজন অসম্ভব রকমের ভয় করেন।

আমি স্বীকার করছি, ২০২৬ এর ফাইনালে মেসি তেমন কোন পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি সত্যি। কিন্তু এটা আপনাকে মানতেই হবে যে, ফুটবল কোন একক ব্যক্তির খেলা নয়। টিমের অন্য মেম্বাররা যদি একদমই ন্যূনতম পারফর্মেন্সটাও করতে না পারে, সেক্ষেত্রে সেরা হয়েও কিছু করার থাকেনা।

কিন্তু মেসির কাছে সম্ভবত খেলায় জেতা বা হারা দিয়ে কিছু যায়-আসে না। বরং খেলতে পারাটাই তার কাছে অনেক বেশি আনন্দের বিষয়।
আর সম্ভবত এজন্যই তিনি এখনো টিকে আছেন।

যদি তিনি সুনামের পিছনেই ছুটতেন, তাহলে কাতারে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জেতার পর নিরাপদে অবসরে যেতে পারতেন। কেননা ২০২২ এর পর তার পাবার আর কিছু ছিলনা। নিজের সুনামের ঝুঁকি তিনি নিতে যেতেন না।

আর যদি অর্থের পিছনে ছুটতেন, তাহলে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোন প্রয়োজনই ছিলনা। ক্লাব ফুটবলে মেসি এতো সফল হয়েছেন যে হাতে গোনা ২-১ জনই এতোটা পেরেছেন।
কাজেই অর্থ বা সুনাম নয়, বরং খেলার আনন্দই তাকে আজও এই ফুটবল খেলায় থাকতে সাহায্য করেছে।

ফুটবল যদি বিউটিফুল গেম হয়, সেই বিউটিফুল গেমের বিউটি হচ্ছেন মেসি।
মেসি এমন একটা অবস্থানে পৌঁছে গেছেন যে, কোন খেলাতে জেতা বা হারা দিয়ে তাকে আর সংজ্ঞায়িত করা উচিৎ নয়।
বরং যতক্ষণ তিনি খেলছেন ততোক্ষণ তার খেলার সৌন্দর্য উপভোগ করে নিন। কেননা যেদিন থেকে তিনি অবসর নিবেন সেদিন থেকেই এই সৌন্দর্যটা আর দেখতে পাওয়া যাবেনা।

আরেকজন মেসি?
আমার মনে হয়না খুব দ্রুত বা সহজেই আমরা আর এমন কাউকে খুঁজে পাব।

Something Nazmul

Something Nazmul

#somethingnazmul
#lionelmessi
#leomessi
#messi
#thebeautyofgame

Scroll to Top